Get all MCQ questions and answers of ‘The Open Window’ by H.H. Munro (Saki) for WBCHSE Class 11 English Semester 1. Perfect for exam preparation.

অনুবাদ : বাংলা

সাকি-র লেখা বিখ্যাত ছোটগল্প ‘দ্য ওপেন উইন্ডো’-এর একটি বাংলা অনুবাদ নিচে দেওয়া হলো। গল্পের প্রধান চরিত্র মিস্টার ফ্রেমটন নাটেল স্নায়বিক দুর্বলতা সারাতে এক শান্ত পল্লী অঞ্চলে বেড়াতে যান। সেখানে তিনি এক ভয়ংকর ভূতের গল্প শোনেন, যা আসলে এক কিশোরীর নিছক রসিকতা। এই কৌতুকভরা গল্পটি পাঠকের মনে চমক তৈরি করে। 

‘আমার মাসিমা কিছুক্ষণের মধ্যেই নিচে আসবেন, মিস্টার নাটেল,’ বললেন সেই স্বকীয় ভঙ্গিমার কিশোরীটি। ‘ততক্ষণ পর্যন্ত আপনাকে শুধু আমার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।’

মিস্টার ফ্রেমটন নাটেল চেষ্টা করলেন এমন কিছু বলতে যা মাসিমার ভাগ্নীকে যথাযথভাবে খুশি করবে এবং মাসিমাকে অসম্মান না করেই। তাঁকে এই আরামদায়ক স্থানে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল তার বোনের কাছ থেকে, যাতে স্নায়ু শিথিল হয়। তাকে বলেছিল, ‘তুমি জানো, তোমার জন্য এটি সম্পূর্ণ বিশ্রাম এবং মানসিক চাপ ও যে কোনো ধরনের শারীরিক পরিশ্রমের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি। তুমি যাকে জানো না তাকে দেখতে যেও না; না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’ সেই কারণে ফ্রেমটন এমন জায়গা বেছে নিলেন যেখানে তিনি যাদের চেনেন তাদের কাছ থেকে চিঠি দিয়ে পরিচিতি লাভ করেছেন।

‘সুতরাং, আপনি আমার মাসিমা সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানেন না?’ সেই কিশোরীটি, যার নাম ভেরা, জিজ্ঞাসা করলো।

‘আমি তাকে কেবল তার নামের চিঠি এবং চার বছর আগে একটি বিয়ের আমন্ত্রণ কার্ডের মাধ্যমে জানি,’ ফ্রেমটন উত্তর দিলেন। ‘আমি জানি যে, আপনার মাসিমার বাড়িটি শান্ত, এবং আশা করি এটি আমার স্নায়ু রোগের চিকিৎসায় সহায়ক হবে।’

‘তাহলে তার মর্মান্তিক ঘটনার বিষয়ে আপনার কিছু জানা নেই?’ ভেরা বলল।

‘না, কিছুই নেই,’ ফ্রেমটন বললেন। ‘আসলে, আমি এখানে সম্পূর্ণভাবে অপরিচিত।’

ভেরা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। ‘তিন বছর আগে, এই জানালা দিয়েই তারা চলে গিয়েছিলেন,’ সে বলল। ‘আমার মাসিমা বিশ্বাস করেন যে তারা একদিন ফিরে আসবেন, তারা এবং তাদের সাথে হারিয়ে যাওয়া ছোট্ট কুকুরটিও। জানালাটি প্রতিদিন খোলা রাখা হয়, যতক্ষণ না সন্ধ্যা নামে। মাসিমা প্রায়ই আমাকে বলেছেন যে, তার স্বামী ও তার দুই ভাই কিভাবে শিকার করতে গিয়েছিলেন এবং তারা আর কখনো ফিরে আসেননি।’

ভেরার কণ্ঠে কোনো দুঃখের চিহ্ন ছিল না। কেবল ভয়ংকর এক আখ্যানের প্রতি তার মুগ্ধতা প্রকাশ পাচ্ছিল। ফ্রেমটন হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলেন। ভেরা বলতে লাগল, ‘সেদিন সন্ধ্যায় তারা শিকারের জন্য গিয়েছিলেন, এবং তাদের সাথে ছিল ছোট্ট একটি কুকুরও। আমার মাসিমা তখন থেকেই বিশ্বাস করেন যে তারা একদিন ফিরে আসবেন। সেই থেকে তিনি সন্ধ্যা হলে এই জানালাটি খুলে রাখেন। তিনি প্রায়ই আমাকে বলেন, তার স্বামী এবং তার ছোট ভাই রনি, যারা ফিরে আসেনি, তাদের কথা।’

ফ্রেমটন হতভম্ব হয়ে দেখলেন, ভেরা যেন একটি ভয়ঙ্কর গল্পের বর্ণনা দিচ্ছে।

কিছুক্ষণ পরে, ভেরার মাসিমা, মিসেস স্যাপিটন, ঘরে ঢুকলেন। ফ্রেমটন তাঁর দিকে তাকিয়ে রইলেন। মিসেস স্যাপিটন বললেন, ‘আমি দুঃখিত, মিস্টার নাটেল, আপনাকে অপেক্ষা করিয়ে রাখার জন্য। আমার স্বামী এবং আমার ভাইয়েরা শিকার থেকে ফিরবেন। তারা সম্ভবত এই জানালা দিয়ে প্রবেশ করবেন, তাই আমি এটি খুলে রেখেছি।’

ফ্রেমটনের শরীর শীতল হয়ে গেল। তার চোখে ভেরার কথাগুলো ভেসে উঠল, এবং তিনি ভয় পেলেন।

কিছুক্ষণ পরে, মিসেস স্যাপিটন জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে বললেন, ‘আরে, তারা আসছে! অবশেষে!’

ফ্রেমটনের বুক কেঁপে উঠল। তিনি জানালা দিয়ে বাইরে তাকালেন, দেখলেন তিনজন মানুষ এবং একটি কুকুর আসছে। তারা মিসেস স্যাপিটনের দিকে তাকিয়ে হাসলেন। ফ্রেমটন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না। তিনি দ্রুত ঘর ছেড়ে বাইরে চলে গেলেন। তিনি পাগলের মতো দৌড়ালেন।

এরপর মিসেস স্যাপিটনের স্বামী এবং তার ভাইয়েরা জানালা দিয়ে ঘরে ঢুকলেন। তারা ফ্রেমটনের এই অদ্ভুত আচরণ দেখে অবাক হলেন। মিসেস স্যাপিটন হাসতে হাসতে বললেন, ‘কি অদ্ভুত মানুষ! তিনি তার অসুস্থতা নিয়েই কেবল কথা বলছিলেন, আর হঠাৎ দৌঁড়ে পালালেন, যেন ভূত দেখেছেন!’

ভেরা নীরবে হাসল, এবং বলল, ‘তিনি মনে হয় কুকুরটিকে ভয় পেয়েছিলেন। তিনি নাকি একবার কুকুরের ভয়ে একটি কবরস্থানে আটকে পড়েছিলেন।’ ভেরা আবারও একটি সুন্দর মিথ্যা বলল। আসলে, অদ্ভুত গল্প তৈরি করাই ছিল তার স্বভাব।

গল্পটির মূল বিষয়:

এই গল্পের মূল বিষয় হল, ভেরা নামক কিশোরীর অদ্ভুত স্বভাব। সে অদ্ভুত গল্প তৈরি করে মানুষজনকে চমকে দিতে ভালোবাসে। তার এই স্বভাবই ফ্রেমটন নাটেলের অদ্ভুত আচরণের কারণ। ফ্রেমটন ভেরার কথায় বিশ্বাস করে, এবং সত্যি ঘটনাকে একটি ভূতুড়ে ঘটনা ভেবে ভয় পায়। এটি একটি চমৎকার গল্প যা পাঠককে অবাক করে দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More Articles & Posts